ফেসবুক থেকে আয়

ফেসবুক থেকে আয় করা অসম্ভব কিছু নয়

অনলাইন ইনকাম ফেসবুক
ফেসবুক এখন আর শুধু লাইক,কমেন্ট,শেয়ার এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।এটি রীতি মতো হয়ে উঠেছে একটি ব্যবসায়িক প্লাটফরম।যার কারনে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানান অর্থনেতিক করমকান্ড।তাই ফেসবুক থেকে আয় করার নানা পথ খুলে গিয়েছে।আজ ফেসবুক থেকে আয় করার উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

 

 

ফেসবুক থেকে আয় করার উপায়সমূহঃ-

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫০ কোটির উপরে।ঠিক যেন বিশ্বের মধ্যে আরেকটা বিশ্ব গড়ে উঠেছে যার নাম ফেসবুক।
ফেসবুক থেকে আয়
যদিও সরাসরি ফেসবুক থেকে আয় করার উপায় গুলো অনেক কঠিন আর শর্ত সাপেক্ষ।
তথাপি ফেসবুকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা প্রতিদিন নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

 

 

১। স্পন্সরড পোষ্ট এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে ইনকামঃ-

ফেসবুকে যদি আপনার একটি ফ্যান পেজ থাকে,আর তাতে অনেক ফ্যান,ফলোয়ার থাকে তবে স্বভাবতই অনেক পন্য মালিকেরা চাইবে আপনার ফ্যান ফলোয়ারদের মাঝে তাদের পন্যের প্রচার করে।
আপনার জনপ্রিয় পোষ্টে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আপনি ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন।

 

 

২। ভিডিও এডস ব্রেক এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয়ঃ-

প্রথমেই বলেছিলাম,ফেসবুক এখন শুধু আর লাইক,কমেন্ট,শেয়ার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।এখন ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও ভিডিও আপলোড করা যায়।
ফেসবুক থেকে আয় করার ২০২০ সালের আলোড়ন জাগানো ফিচার হলো এডস ব্রেক।
আর সেই ভিডিও মনিটাইজ করে ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম করা যায়।ফেসবুকের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে এডস ব্রেক।মানে বিজ্ঞাপন বিরতি।
আপনার আপলোড করা ভিডিও মধ্যে ফেসবুকের এড প্রদর্শন করাবে তার বিনিময়ে ফেসবুক আপনাকে টাকা দিবে।
ভিডিও তে ভিজিটর যত বেশী হবে আপনার ইনকামও তত বাড়বে।কিছুটা ইউটিউবের মতোই ব্যাপার।
এডস ব্রেক শুধুমাত্র ফেসবুক পেজের জন্য।এডস ব্রেকের সুবিধা ভোগ করার জন্য ফেসবুক নির্ধারিত কিছু নিয়ম নীতি আছে।
যেগুলো পুরন করার মাধ্যমে আপনাকে এডস ব্রেক সুবিধা পাওয়ার উপযুক্ত হতে হয়।

 

 

এডস ব্রেক এর শর্তাবলীঃ-

আপনার পেজে নূন্যতম ১০ হাজার লাইক থাকতে হবে।
প্রতিটি ভিডিও নূন্যতম ৩ মিনিটের হতে হবে।
সর্বশেষ ৬০ দিনে সব ভিডিও মিলিয়ে ৩০ হাজার ভিউ থাকতে হবে।যার প্রত্যেকটি ভিউ কমপক্ষে ১ মিনিট স্থায়ী হতে হবে।
১০ মিনিটের অধিক মাপের ভিডিও গুলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য আদর্শ।কোন এনিমেশান ভিডিও গ্রহনযোগ্য হবে ভিডিও অবশ্যই চলমান এবং ইউনিক হতে হবে।প্রাসংগিক কনটেন্ট সমেত যত বড় এবং যতবেশী ভিডিও থাকবে ততবেশী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হবে।আর ইনকামও তত বেশীই হবে।
যদি উপরোক্ত শর্ত গুলো পুরন করার উপযুক্ত কোন ফেসবুক পেজ আপনার থাকে।তাহলেই আপনি এডস ব্রেক এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

 

এডস ব্রেক এলিজিবিলিটি চেকঃ-

আপনার পেজ এডস ব্রেক এর জন্য উপযুক্ত কি না তা জানার জন্য আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই লিংকে গিয়ে চেক করতে পারবেন।পাশাপাশি ওখান থেকে আপনি জানতে পারবেন এডস ব্রেক এর উপযুক্ত হতে আপনার কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে।

 

 

পেজটি যোগ্য হওয়ার পরেই বিবেচনাই আসবে কনটেন্টের বিষয়বস্তু।আপনার পেজের ভিডিও কন্টেন্ট গুলো পর্যালোচনা করার জন্য এই লিংকে যেতে হবে।
এখানে আপনি আপনার পেজ এবং কনটেন্টের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।এখানে আপনি ফেসবুক ফলোয়ার,ভিডিও ভিউয়ার ও মনিটাইজেশান এলিজিবিলিটিসহ কমপ্লায়েন্সের খুটিনাটি জানতে পারবেন।
যার থেকে আপনি পেজ এবং কনটেন্টের ঘাটতি গুলো পুরন করতে পারেন।

 

 

আপনার পেজ এডস ব্রেক এর জন্য যোগ্য নির্বাচিত হলে আপনার আগের সব ভিডিও এবং নতুন করে আপলোড করা ভিডিও গুলোতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।বিজ্ঞাপন দেখানোর দুটি অপশান থাকে।

 

 

একটি হলো ফেসবুক স্বয়ংক্রিয় ভাবে তাদের ইচ্ছামতো জায়গায় বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে।অথবা ভিডিওর ৬০ থেকে ১২০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি জায়গা আপনি দেখিয়ে দিলেন।বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে যত টাকা ফেসবুক ইনকাম করবে তার ৫৫ শতাংশ আপনাকে দিবে।সংখ্যাটা কিন্তু নেহাতই কম নয়।

 

৩।ফেসবুক ইন্সটেন্ট আর্টিকেল থেকে ফেসবুক থেকে আয়ঃ-

ফেসবুক থেকে আয় করার একটি অন্যতম উপায় এটি।যদি আপনার ব্লগ ,নিউজসাইট বা ম্যাগাজিনে ফেসবুক ইন্সটেন্ট আর্টিকেল চালু থাকে।
তবে সেখানে বিজ্ঞাপন দেখানোর বিনিময়ে অর্জিত টাকা সরাসরি ফেসবুক আপনাকে প্রদান করবে।
ধরুন,আপনার একটা ব্লগ আছে আর সেই ব্লগের নামে একটি ফেসবুক পেজ আছে।স্বভাবতই আপনি আপনার ব্লগ পোষ্ট গুলোর লিংক ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন।

 

 

যদি আপনার সেই ব্লগে ইন্সটেন্ট আর্টিকেল চালু থাকে তাহলে ফেসবুক ইউজাররা আপনার শেয়ার করা লিংক থেকেই আপনার ব্লগের পুরা পোষ্ট টি খুবই দ্রুত গতিতে লোড করে নিতে পারবে।তারজন্য আলাদা করে আপনার ব্লগের সার্ভারে ফেসবুক ইউজারকে যেতে হবে না।আলাদা করে এমবি খরচও করতে হবে না।

 

 

এমনকি যদি সেই পোষ্ট ছবি বা ভিডিও থেকে থাকে সেগুলোও অতি দ্রুত স্বয়ংক্রিয় ভাবে লোড হবে।এখানেও ফেসবুক তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করবে।যথারীতি বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের একটা অংশ ফেসবুক আপনাকে দিবে।

 

ফেসবুক ইন্সটেন্ট আর্টিকেল শর্ত সমূহঃ-

একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে।
ফেসবুক পেজ থাকতে হবে।
অবশ্যই ইউনিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট থাকতে হবে এবং ফেসবুকের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য ব্যাংক একাউন্ট লাগবে।

 

 

ফেসবুকের দেখানো ৬ টি ধাপে আপনার ওয়েবসাইটে ইন্সটেন্ট আর্টিকেল যোগ করতে পারবেন।
এই লিংকে গিয়ে আপনার নির্ধারিত পেজটি সিলেক্ট করে সাইন আপ করুন।তারপর ফেসুবুকের দেখানো স্টেপ গুলো সচেতন ভাবে ফলো করুন।

 

৪।এফলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে ইনকামঃ-

অন্যন্যা সাইটের মতোই ফেসবুকেও এফলিয়েট কোম্পানীর লিংক শেয়ার করে বিক্রিত পন্যের লভ্যাংশের কমিশন পাওয়া যায়।
এক কথায় এফলিয়েট মার্কেটিং হলো কমিশন ভিত্তিক ব্যবসা।

 

 

আপনার শেয়ার করা লিংক থেকে বিক্রি যত বাড়াতে পারবেন,আপনি ততই টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
Amazon, ebay, evally এর মতো অনেক বড় বড় নামী দামি কোম্পানী আছে যারা এফলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা দিয়ে থাকে।

 

৫।প্রোডাক্ট বিক্রি করে ফেসবুক থেকে ইনকামঃ-

মোটামুটি ই কমার্স এর আদলে ফেসবুকে শপ বানানোর সুযোগ থাকে।
যদি আপনার নিজস্ব পন্য থাকে তাহলে আপনি সেটা শপে আপলোড করে কাস্টমারের কাছে বিক্রি করতে পারেন।
সুবিধা হলো,ফেসবুক এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজের আপনার পন্য টার্গেট অডিয়েন্সের সামনে তুলে ধরা যায়।

 

 

ফলে পন্য বিক্রির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।ফেসবুক থেকে আয় করার বিষয়টি ২০২০ সালে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
বিশেষ করে ফেসবুক ভিডিও সুবিধা চালু হওয়ার পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে চলেছে।
অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ

শেষকথাঃ-

যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা সচরাচর দিনের অনেকটা সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতেই মানুষ ফেসবুকই বুঝে থাকে।
সেই ফেসবুকেই বসে বসে কিছু কাজ করে যদি কিছু টাকা আয় করা যায় তাহলে কতই না ভালো হতো।আসলে ফেসবুক থেকে আয় করা খুব কঠিন কোন কাজ নয়।নির্দিষ্ট কিছু কাজ রুটিন মাফিক করে গেলেই সফলতা পাওয়া সম্ভব।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *