ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি,ওয়েব সার্ভার বা লোকাল হোস্টে

ওয়ার্ডপ্রেস
বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহ্রত কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা খুবই সহজ এবং এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।

 

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে অবশ্যই আপনার একটি ওয়েব সার্ভার বা লোকাল হোস্ট সেটাপ করার প্রয়োজন হবে। সেই সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেসের সোর্স কোড আপলোড করে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি পূর্নাংগ ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করা যাবে এবং সেটি ইচ্ছামতো কাস্টমাইজ করা যাবে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস কি কেন শিখবো?

এই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল ব্যবহত সহজ এবং ওপেনসোর্স কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গুলোর একটি হলো ওয়ার্ডপ্রেস। পিএইচপি, মাইএসকিউএল নির্ভর এই ব্লগিং সিস্টেমের যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে।

 

তবে আমি আশা করি ওয়ার্ডপ্রেস কি কেন শিখবো এটা?এমন প্রশ্নের উত্তর জেনেই আপনি এখানে এসেছেন। তাই ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে খুব বেশী কথা বলার প্রয়োজন হবে না।
খুব বেশি কোডিং জ্ঞান ছাড়াই ওয়েবসাইট নির্মানে ওয়ার্ডপ্রেস খুব কার্যকর। বিধায় দ্রুতই ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব জগতে নিজের অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়। সামান্য পরিশ্রমে ওয়ার্ডপ্রেস এ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব এবং যেকোন ধরনের কাজের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বের প্রথম সারির ৪০০০০০০ টি ওয়েবসাইটের মধ্যে ১২% হলো ওয়ার্ডপ্রেস এ তৈরি।ব্লগ ছাড়াও ইকমার্স এবং যেকোন ধরনের বিজনেস, কর্পোরেট, সরকারি, অফিসিয়াল ওয়েব সাইট তৈরিতে ওয়ার্ডপ্রেস অতুলনীয়। ডেভলপমেন্ট সোর্স কোড ডাউনলোড করে সেটি ওয়েব সার্ভারে ইন্সটল করে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া।
একই ভাবে ওয়ার্ডপ্রেস লোকাল সার্ভারে ইন্সটল করা যায়। ইচ্ছামতো কাস্টমাইজ করে সেটাকে প্রোডাকশন সার্ভারে স্থানান্তর করা যায়।এই পর্বে আমরা দেখবো ওয়েব সার্ভারে বিনামূল্যে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রক্রিয়া।

 

ওয়ার্ডপ্রেস কিভাবে শিখবো?

ওয়ার্ডপ্রেস শেখার জন্য অনেক উপায় আছে।সবচেয়ে বড় উপায় হলো অনলাইন রিসোর্চ।অনলাইনে ওয়ার্ডপ্রেস কিভাবে শিখবো এ সম্পর্কিত অনেক অনেক টিউটোরিয়াল,অসংখ্যা ভিডিও এবং সর্বোপরি গুগল সার্চ তো আছেই।
তবে এটা সত্যি অনলাইন থেকে রিসোর্চ বের করে সেখান থেকে হাতে কলমে শেখাটা অনেক কঠিন বিষয়।ভালো হয় যদি শিখতে আগ্রহী কয়েকজন একসাথে চর্চা করে অথবা কোন প্রফেশনাল টিমের সাথে সহযোগী হিসাবে যুক্ত থাকা।

 

কিভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট বানানো যায়?

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বর্ননা করে আপনাদের দেখানোই আজকের এই পোষ্টের উদ্দ্যেশ্য।বিশেষ করে, যারা ওয়েব ডেভলপমেন্ট শিখতে আগ্রহী, ভবিষ্যতে ওয়েব ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন ।নিজেই নিজের বিজনেস বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন আজকের পোষ্ট টি তাদের জন্যই।
আসুন, দেখে নেওয়া যাক,কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানানো যায়।
ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রক্রিয়াটি শুরু করার জন্য আপনার থাকতে হবে যেকোন হোস্টিং প্রোভাইডার এর হোস্টিং প্যাকেজের এক্সেস।অর্থাৎ যেকোন একটি ওয়েব সার্ভারের সি প্যানেল এক্সেস আপনার থাকতে হবে।বলে রাখা ভালো যে, বেশীর ভাগ হোস্টিং প্রোভাইডার ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য সফটোকুলাস এপ্লিকেশন এর মাধ্যমে ওয়ানক্লিক ইন্সটল এর সুবিধা দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ইন্সটলশনের প্রয়োজন পড়ে না।
তবে, ডেভলপমেন্ট এর গোড়ার বিষয় টা জানা এবং বুঝার জন্য ম্যানুয়াল ইন্সটলেশনের প্রক্রিয়া গুলো জানা খুব দরকার।
প্রথমেই কোন বিশ্বস্ত সাইট থেকে ওয়ার্ডপ্রেস এর ডেভলপমেন্ট কোডের জিপ ফাইলটি ডাউনলোড করতে হবে।

সোর্স কোড ডাউনলোড :-

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সবচেয়ে ভালো হলো হয় wordpress.org থেকে সোর্সকোড ডাউনলোড প্রক্রিয়া টি সম্পন্ন করা।
ডাউনলোড সম্পন্ন হলে ৩ টি উপায়ে ফাইলটি সার্ভারে আপলোড করা যাবে।আপলোড করার পূর্বে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলের জন্য আপনার সার্ভারের public_html এ একটা ডিরেক্টরি (বুঝার সুবিধার্থে mysite নামে) তৈরি করে নিবেন যেখানে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে চান।
তাহলে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস এর URL হলো http://yourdomain.com/mysite

সোর্স কোড আপলোড :-

এবার ৩ টি উপায়ে ডাউনলোড কৃত ফাইলটি মূল সার্ভারের নিদিষ্ট ডিরেক্টরি (mysite) যেটাকে এই মুহুর্তে প্রোজেক্ট ডিরেক্টরি বলবো সেখানে সোর্সকোড আপলোড করতে পারবেন,
এফটিপি ব্যবহার করে,
সার্ভারের ফাইল ম্যানেজারের upload বাটন ব্যবহার করে ,
সর্বোপরি, ssh (secure socket shell) ব্যবহার করে ফাইল টি মূল সার্ভারে সোর্সকোড আপলোড করা যাবে ।
আপলোড সম্পন্ন হলে আপনার বানানো mysite ডিরেক্টরি তে wordpress–.-.zip ফাইলটি দেখতে পাবেন।ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করে zip ফাইলটি extract করে নিতে হবে।সেক্ষেত্রে extract লোকেশন হবে আপনার সদ্য বানানো প্রোজেক্ট ফোল্ডারটি (mysite)।
এবার আপনি আপনার প্রোজেক্ট ফোল্ডারে zip ফাইলটি ছাড়াও WordPress নামের আরেকটি ফোল্ডার দেখতে পাবেন, এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব ফাইলগুলো আছে।এবার WordPress নামক ফোল্ডার থেকে সব গুলো ফাইল move করে আপনার প্রোজেক্ট ডিরেক্টরি অর্থাৎ mysiteডিরেক্টরি তে রাখুন।

ওয়ার্ডপ্রেস ডাটাবেজ সেটাপঃ-

এবার ওয়ার্ডপ্রেস ডাটাবেজ সেটাপ করার পালা।সেক্ষেত্রে cpanel এর MySQL Database Wizard এ গিয়ে নতুন একটি ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে, পরের ধাপে সেই ডাটাবেজ এর জন্য একটা user তৈরি করতে হবে,পাসওয়ার্ড এবং কনফার্ম পাসওয়ার্ড দিয়ে user তৈরির পর সেই user কে ডাটাবেজ এর যাবতীয় প্রিভিলেজ দিতে হবে এবং এই সবগুলো তথ্যই আপনাকে গোপন কোন স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
যাতে পরে সেগুলো wp-config.php ফাইলে ব্যবহার করতে পারেন।ফাইল ম্যানেজার দিয়ে mysite নামক প্রোজেক্ট ডিরেক্টরি তে যান, দেখুন wp-config-sample.php নামের একটি ফাইল আছে।সেটি খুলুন, আর একটু আগে যে ডাটাবেজ তৈরি করলেন নির্দিষ্ট জায়গায় সেই তথ্য গুলো লিখে দিন।
এবার wp-config-sample.php নামের ফাইলটি নাম বদলে wp-config.php নামে Rename করুন। ব্যস এই খানে আপনার কাজ শেষ।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরিঃ-

এবার আপনার পছন্দের যে কোন ব্রাউজারে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পালা।
ব্রাউজারের এড্রেসবারে আপনার মূল ডোমেইন নাম টাইপ করে তার সাথে রাইট স্লাশ ব্যবহার করে আপনার সেই প্রোজেক্ট ডিরেক্টরির নামটি বসিয়ে ইন্টার চাপুন।
এবার http://yourdomain.com/mysite/wp-admin/install.php দেখতে পাবেন আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলেশনের প্রথম ধাপ,পরপর ৩ টি ধাপে ইন্সটলেশন সম্পন্ন হবে।
প্রথম ধাপে language সিলেক্ট করে continue চাপুন,
দ্বিতীয় ধাপে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস এর এডমিন তৈরির ধাপ, প্রথমে সাইট টাইটেল দিয়ে তারপর এডমিন ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিন।
এরপর এডমিনের ব্যবহৃত ইমেল দিয়ে আবার তৃতীয় ধাপে আপনার ইন্সটলেশন সাকসেসড ম্যাসেজটি দেখতে পাবেন, এবং এখানে আপনার এডমিন ড্যাশবোর্ড এক্সেস করার জন্য log inকরতে বলবে, log in বাটনটি চাপলে admin login wizard আসবে, যেখানে সদ্য তৈরি কৃত এডমিন credentials ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেস এডমিন ড্যাশবোর্ড এ প্রবেশ করুন।
আপনি সফলভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি সম্পন্ন করেছেন, এবার পুরাতন পেজ এবং পোষ্ট গুলো রিমুভ করে নিন।
ইচ্ছামতো কাস্টমাইজ করে নিন আপনার সাধের ওয়েবসাইট টি।অথবা কোন রকম পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না করেও আপনি এখান থেকেই ব্লগিং শুরু করতে পারেন।
আর আপনার সাইটটি দেখতে চাইলে ব্রাউজারের এড্রেসবারে শুধু টাইপ করুন http://yourdomain.com/mysite,ব্যস, দেখতে পাবেন আপনার তৈরি করা প্রথম ওয়েবসাইট টি।এবার চাইলে এডমিন ড্যাশবোর্ডে (http://yourdomain.com/mysite/wp-admin) লগ ইন করে যেকোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারেন।

উপসংহার :-

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার সাইট টাকে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে নিন। ওয়ার্ডপ্রেস সেই স্বাধীনতা আপনাকে দিয়ে দিয়েছে। যাতে আপনি ইচ্ছা মতো আপনার সাইটটাকে সাজিয়ে নিতে পারেন।
এটাই ওয়ার্ডপ্রেস এর অন্যতম বিশেষত্ব। ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রতিটা অংশকে আপনি আপনার মতো সাজিয়ে নিতে পারবেন। এতে কোন বাধা নেই।
আর সেজন্যই অনেক অনেক সিএমএস এর মধ্যেও ওয়ার্ডপ্রেস এতো জনপ্রিয়।ভুলে যাবেন না,সবেমাত্র আপনি ওয়ার্ডপ্রেস শুরু করলেন। কাস্টমাইজেশানের ধাপ গুলো এখনো বাকী।এখান থেকে আপনি ব্লগ, ইকমার্স, কর্পোরেট বা আরোও অনেক ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।
সামনেই হয়তো আবার কাস্টমাইজেশানের কোন একটা ধাপ নিয়ে আবার হাজির হবো। সেপর্যন্ত ভালো থাকবেন।আর ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার ব্যাপারে কোন সমস্যা হলে বা পোষ্টের কোন ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *