ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার সহজ উপায়

অনলাইন ইনকাম ইনস্টাগ্রাম
লাইক,কমেন্ট,শেয়ার,আড্ডার পাশাপাশি রয়েছে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার সুযোগ।আজকের পোষ্টে ইনস্টাগ্রাম থেকে ইনকাম করার খুটি নাটি বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন কিন্তু আর কোন নির্দিষ্ট শ্রেনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।সব পেশা,শ্রেনী,দেশ,ধর্মের মানুষের উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোকে সর্বদায় মুখোরিত করে তুলেছে।ফলে এর সাথে জড়িয়ে পড়ছে ব্যবসা।আর সেই সুযোগে বাড়ছে এখান থেকে আয় করার সুযোগও।সেক্ষেত্রে কিন্তু ইনস্টাগ্রামও পিছিয়ে নেই।

 

অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মতোই যথাযথ পথে এগোলে ইনস্টাগ্রাম হতে পারে আপনার আয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
এটি যুক্তরাস্ট ভিত্তিক একটি ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং সাইট।

 

২০১০ সালে শুধুমাত্র আইওএস এর জন্য এটি চালু হলেও ২ বছর পরেই এন্ড্রোয়েড ও অন্যান্য প্লাটফর্মের জন্য এটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার সুযোগঃ-

শুরুর পর থেকেই এটি সব শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে।অদ্যবদি সেই অগ্রযাত্রা আরোও বেগবান হয়েছে।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তুতে ফিরে আসা যাক।অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো ইনস্টাগ্রামেও টাকা ইনকামের পদ্ধতি মোটামুটি একই।
একটা প্রোফাইল খুলতে হবে। অডিয়েন্স বা শ্রোতা বাছাই করতে হবে।আপনার আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নির্ধারণ করতে হবে।

 

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়
সেইমত কনটেন্ট পাবলিশ করে শ্রোতাদের আপনার দিকে টানতে হবে।
যদি আপনি সফলভাবে উপরোক্ত কাজগুলো করতে পারেন তবে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়ের সুযোগ আপনি নিশ্চিত পেয়ে যাবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক,কমেন্ট,শেয়ার আর আড্ডাবাজীর সাথে সাথে আপনি ভাল পরিমানে আয় করতে পারছেন।
এরচেয়ে ভালো সুযোগ আর কি হতে পারে ?

ইনস্টাগ্রামে একাউন্ট খোলাঃ-

খুব সহজ একটা ধাপ।ইনস্টাগ্রাম এপসটি ডাউনলোড করে সেখানে দেখানো ধাপ গুলো অনুসরন করে নিজের একটা প্রোফাইল বানিয়ে নিতে পারবেন।
সরাসরি https://www.instagram.com/ লিংকে গিয়ে নিবন্ধন শুরু করতে পারেন।
অবশ্য ইনস্টাগ্রাম চালানোর জন্য দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হবে।

পেশাদার প্রোফাইল বানানোর উপায়ঃ-

আপনি যদি আগে থেকেই আপনার বিষয়বস্ত ঠিক করে রাখেন তবে প্রোফাইল তৈরির সময় আপনার বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে একটা ইউজারনেম দিয়ে দিবেন।
আপনার বিষয়বস্তু সেটাই হওয়া উচিত আপনি যে বিষয়ে জানেন।যে বিষয়ে আপনি অন্য মানুষকে বুঝাতে পারবেন।
সেটা যেকোন কিছু হতে পারে।যেটাতে আপনি দক্ষ।

 

ধরুন,আপনি ভ্রমন পিয়াসী তাহলে এটাই আপনার মূল টপিক হতে পারে।বিভিন্ন স্থানে ভ্রমনের অভিজ্ঞতা,ছবি,ভিডিও দিয়ে আপনি দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারেন।
অথবা রেসিপি,ফ্যাশান,ব্যায়াম,মুভি এগুলোও আপনার বিষয়বস্তু হতে পারে।অথবা যদি আপনি টেকনোলজি বা প্রোগ্রামিং এর বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে এগুলোর কোন একটি আপনার মূল বিষয়বস্তু হতে পারে।
যদি আপনার নিজস্ব ব্যবস্য বা ব্র্যান্ড থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই ।সেটাকেই আপনার ইনস্টাগ্রামের মূল বিষয়বস্তু বানিয়ে নিন।

 

বিষয়বস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিনে মানুষ যে বিষয় গুলো বেশী খুজে থাকে সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
পেশাদার প্রোফাইলের কথা এজন্য বললাম,যেন আপনার প্রোফাইল টি সবদিক থেকে পূর্ণতা পায়।বিশেষ করে আপনার প্রোফাইল পিকচার,কভার ফটো,ওয়েবসাইটের লিংক এবং ব্যক্তিগত তথ্যের জায়গাগুলোতে উপযুক্ত তথ্য গুলো প্রদান করুন।

 

বায়ো বিভাগে নিজের সম্পর্কে সংক্ষেপে অথচ পরিস্কার ভাবে কিছু কথা লিখুন।যাতে এক ঝলকে আপনার ব্যক্তিত্ব,মেধা,দক্ষতা এবং জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

অডিয়েন্স বা শ্রোতা তৈরিঃ-

প্রথমদিকে লাইক,কমেন্টের দিকে না তাকিয়ে আপনার নির্ধারিত বিষয়বস্তুর সাথে সামজস্য পূর্ণ ও মানসম্পন্ন,তথ্যবহুল কনটেন্ট প্রকাশ করতে থাকুন।
নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করা এবং শ্রোতাদের সাথে ইন্টার একশানে জড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আপনি দর্শকদের বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।

 

একটা পোষ্টে হাবিজাবি অনেক কিছু দিয়েও লাইক কমেন্ট কামানো যায়।কিন্তু সেটা যদি আপনার বিষয়বস্তুর সাথে সামজস্য পূর্ণ না হয় তাহলে সেইসব লাইক কমেন্টের সংখ্যা কোন গুরুত্ব বহন করবে না।

ট্রাফিক/ভিজিটর সোর্সঃ-

শেয়ারের মাধ্যেমে ট্রাফিক বা ভিজিটর বাড়ানো যায় এটা সত্যি।কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়।নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে অর্থ উপার্জন বা ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্টা করতে চাইলে অরগানিক ট্রাফিকের কোন বিকল্প নেই।
অরগানিক ট্রাফিক পেতে হলে সার্চ ইঞ্জিন এবং এর কারয পদ্ধতি সম্পর্কে অবশ্যই ধারনা থাকতে হবে।

 

পাশাপাশি নিজের ইনস্টাগ্রামের বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু গবেষনা করতে হবে। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশী মানুষ কোন বিষয় গুলোর প্রতি আগ্রহ দেখায়,সেটা জানার চেষ্টা করতে হবে।
মানুষ কোন সমস্য গুলো নিয়ে বেশী সার্চ করে সেটা খুজে বের করতে পারলে এবং সেই মত সমস্যার সমাধান যদি আপনার মূল বিষয়বস্তু হয় তবে,শ্রোতারাই আপনার পোষ্ট খুজে বের করবে।

কনটেন্টের সাথে হ্যাশট্যাগ ব্যবহারঃ-

প্রত্যেকটা পোষ্টের সাথে হ্যাশট্যাগ সমেত প্রাসংগিক কী ওয়ার্ড ব্যবহার করা অবশ্যই ভালো অভ্যাস।কনটেন্টের সাথে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে অরগানিকভাবে ইনস্টাগ্রামের দর্শকদের কাছে পোঁছাতে সেটা খুবই কার্যকর।

 

যেমন ধরুন,আপনি যদি ভ্রমন বিষয়ে কোন পোষ্ট করেন তাহলে সেখানে #ভ্রমন বা #ভ্রমনকাহিনী লিখে যোগ করতে পারেন।

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার পদ্ধতিঃ-

আপনি যদি অরগানিক ফলোয়ার দ্বারা সজ্জিত একটি পেশাদার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল বানাতে পারেন তবে আপনি সেখান থেকে টাকা আয় করার পথে এগিয়ে যাওয়া শুরু করতে পারেন।
অনেকভাবেই ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয় করা যায়।

যেমনঃ-

 

১। এফলিয়েট লিংক শেয়ারঃ-

বিশ্বের নামী দামি কোম্পানীসহ বিভিন্ন স্থানীয় কোম্পানীগুলো এফলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা প্রদান করে থাকে।
সোজা কথা এফলিয়েট মার্কেটিং হলো কমিশন ভিত্তিক ব্যবসা।আপনার জনপ্রিয় পোষ্ট গুলোতে এফলিয়েট লিংক শেয়ার করলেন বা নিজে ওই পন্য গায়ে দিয়ে বা ব্যবহারের ছবি/ভিডিও প্রকাশ করলেন,সাথে পন্যের লিংকটি।যাতে আগ্রহী দর্শক ওই প্রতিষ্টানের ওয়েবসাইট বা পন্য ক্রয়ের পেজে যেতে পারে।
এভাবে বিক্রিত পন্যের নির্ধারিত কমিশন আপনি পাবেন।কোম্পানি ভেদে কমিশনের হার ৪ থেকে ১০ শতাংশ বা কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশী হতে পারে।

 

২। স্পন্সরড পোষ্টঃ-

যথেষ্ট সংখ্যাক ফলোয়ারধারী একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল স্পন্সরড পোষ্টের জন্য বিবেচিত হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার মাত্রার উপর ভিত্তি করে অংশীদারী চুক্তি হয়।
চুক্তি অনুযায়ী স্পন্সরড সামগ্রী ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে প্রদর্শন করে টাকা আয় করা যায়।

 

৩। নিজস্ব পন্য বিক্রিঃ-

পন্য বা ব্রান্ড যদি নিজের হয় তাহলে তো কোন কথায় নেই।
আপনার পন্যে বা পরিসেবার প্রচার এবং বিক্রির জন্য ইনস্টাগ্রাম একটা শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।
তবে,পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে শ্রোতাদের আস্থা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে বিধায় শুরুর দিকে পন্য বিক্রি না করাই ভালো।
সেক্ষেত্রে প্রথমে শ্রোতাদের আস্থা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করে পরে পন্য বিক্রি করা বাঞ্জনীয়।

 

৪। ডিজিটাল পন্য বা সার্ভিস বিক্রিঃ-

ধরুন, আপনার নিজস্ব কোন পন্য নেই,সেরকম বেশী পরিমানের ফ্যান ফলোয়ার নেই তবুও আপনি ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে পারবেন।
কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার কিছু দক্ষতা থাকতেই হবে।
প্রথমদিকে আপনি যেই বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে কিছু চমৎকার শিক্ষনীয় ভিডিও বানিয়ে তা শ্রোতাদের বিনামুল্যে শেখালেন।
পরবরতীতে সেই বিষয়ে আরও কার্যকরী উপায় নিয়ে অর্থ পেইড ভিডিও সিরিজ চালু করতে পারেন।

 

উপসংহারঃ-

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার মতো ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করা যায়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর পাশাপাশি কিছু ইনকাম করতে পারলে মন্দ কি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *