ইভ্যালি

১০০ মিটার দূরে আর একটা ‘রিফান্ড স্টেশন’ আছে ইভ্যালির

তথ্য প্রযুক্তি বাংলাদেশ
অন্যান্য কোম্পানি কনভেনশন সেন্টার বুক করে অনুষ্ঠানের জন্য, ইভ্যালি বুক করেছে কাস্টমারদের রিফান্ড দেওয়ার জন্য। এই কনভেনশন সেন্টার থেকে ১০০ মিটার দূরে আর একটা ‘রিফান্ড স্টেশন’ আছে ইভ্যালির। সকাল থেকে মানুষ এখানে ভিড় জমায়, কনভেনশন সেন্টারে যায়গা হয়না, দুই সারি লাইন লম্বা হয়ে যায় ওই আরেক রিফান্ড পয়েন্ট পর্যন্ত। আমি গিয়েছিলাম দুপরে, এটা অনেকটাই ফাঁকা অবস্থা তখন।

 

কোন কোম্পানির এমন রেকর্ড আছে কি না আমার জানা নেই। কথায় আছে হাসপাতালে না গেলে বুঝা যায়না মানুষ কত কষ্টে আছে, অসহায়। আজ ইভ্যালির আয়োজিত এই কনভেশন সেন্টারে গিয়ে প্রায় সেম ফিল পেলাম। এতদিন রাসেল ভাই যেসব পট্টি পড়িয়েছে লাইভে এসে, সব রঙিন চশমা খুলে দেওয়ার জন্য ইভ্যালিএ এই রিফান্ড মেলা যথেষ্ট।

 

কিন্তু রিফান্ডটা ঠিকঠাক পেলে তো সমস্যাই ছিল না, সমস্যা হল গ্রাহক হয়রানি। এখানে সবাই এসেছে রিফান্ডের জন্য কিন্তু সবাই পাচ্ছে না। অনেকে দেখলাম একটু পর পর ঝগড়া লাগছে, অনেকের মাথায় হাত, অনেকে অসহায়ভাবে চেয়ারগুলোতে বসে আছে। অনেকে অনেক রিকুয়েস্ট করছে, একজনকে ছেড়ে অন্যজনের কাছে ধরনা দিচ্ছে, কোনই লাভ হচ্ছেনা, সবার মুখে একই কথা।

 

ইভ্যালির কর্মচারীদের উপর থেকে নির্দেষ, ৫০ হাজারের নিচে কোন অর্ডার রিফান্ড পাবেনা, চেক দেওয়া হবেনা। এই উপরমহল টা কে বা কারা তার হদিস নেই। শুধুমাত্র ৫০ হাজারের উপরের অর্ডারে রিফান্ড পাবে। মানে ৫০ হাজারের নিচের টাকা কোন টাকা না, এরা সবাই গরিব, বঞ্চিত। বার বার এক কথা- সম্ভব না, আমার কিছু করার নাই, আমাকে যে অর্ডার দেওয়া হয়েছে সেটা করছি।

 

রিফান্ড চান তো অর্ডার ৫০ হাজার বানিয়ে আনেন। সেটা আবার কেমন কথা! উপরের কোন কর্মকর্তা নেই যার সাথে কথা বলা যাবে। রোবট বানিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে কিছু কামলাকে।

 

অর্ডারটা ছিল ফোনের, ৩৫ হাজার টাকার অর্ডার, ৫ মাস হয়ে গেছে। রিফান্ড দেবে না কারণ ৫০ হাজারের অর্ডার না। উপায়? তারা বলে কম দামি কোন ফোন নিতে। একজন গ্রাহক ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে পছন্দের ফোন অর্ডার করে ৫ মাসেও ফোন না পেয়ে রিফান্ড তো পাবেই না, উল্টা বলা হচ্ছে কম দামি ফোন নেন। কোন যুক্তিতে? প্রশ্ন করলে আবার বলা হচ্ছে তাহলে ২ টা ফোন নেন। হাস্যকর।
এটা কেমন কথা? কেন নিবো ২টা ফোন? ফোনের ব্যবসা তো করিনা যে ২টা নিয়ে বিক্রি করবো। বললাম সেম প্রাইসে অন্য ফোন দেন, তো বলে আর কোন ফোন নাই।
এরপরে বললাম আচ্ছা রিফান্ড লাগবেনা, ইনভয়েসটা সুমাশ, রিও, বা আপনাদের যে শপের সাথে এগ্রিমেন্ট আছে তাকে ফরওয়ার্ড করে দেন, তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে নিবো। বলে সেটারও অপশন নাই, আমাদের হাতে কিছুই নাই, আমরা শুধু বসে আছি ৫০ হাজার+ অর্ডারের রিফান্ড ইস্যু করতে। আচ্ছা চেক দিবেন না তো অন্যভাবে দেন? বিকাশ, ব্যাংক? উত্তর- সেটা আমরা জানিনা, সেই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে! ভোক্তা অধিকারে মামলা দিবো। মুখের উপর বলে দিল, দেন, দিয়ে কিছু করতে পারবেন না।
অন্যদের মত দিশেহারা হয়ে অসহায় ভাবে বসে আছি চেয়ারে, এমন সময় পাশের এক ভদ্রলোক বললেন, ভাই একটা উপায় আছে, কারও কাছ থেকে ইনভয়েস কিনে নেন। মানে? মানে এরকম আরও অনেকে আছে যাদের অল্প টাকার অর্ডার কিন্তু রিফান্ড পাবে না।
তাদের কাছ থেকে তাদের ইনভয়েসটা কিনে আপনার অর্ডারের সাথে মিলিয়ে ৫০ হাজার করে রিফান্ড দিতে বলেন। এটায় কাজ হবে কারণ উনি নিজেও নাকি উনার ১২ হাজারের ইনভয়েস ১০ হাজারে এক জনের কাছে দিয়ে দিয়েছেন। নিজে ক্যাশ পেলেন আর যাকে দিলেন সে পেলো চেক। অবস্থা তাহলে এত খারাপ যে আমাকে নিজের অর্ডারের রিফান্ড নিতে অন্য একজনের অর্ডার কিনে নিতে হবে! এই অভিনব সিস্টেমের জন্য ইভ্যালি নিঃসন্দেহে পুরষ্কারের দাবিদার।
ভদ্রলোক আরও বললেন গত ডেটে উনার ফ্রেন্ড বাইকের রিফান্ড নিতে এসেছিল সকালে। লম্বা লাইন, বিতর্ক, ঝগড়া সব মিলিয়ে চেক পেতে পেতে হয়েছে রাত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে লাইনেই থাকতে হয়েছে। আর চেক পেয়েও কি শান্তি আছে? ইভ্যালিরই কর্মকর্তাকে বলতে শুনলাম চেক যারা পাচ্ছে এই চেক নাকি মার্চ মাসের আগে ক্যাশই হবে না!‌! কি বিজনেস এটা?
ইভ্যালির বিজনেস স্কিম কি তাহলে এমনই? আর এই যে কয়েকমাস তদন্ত (নাকি নাটক) হল সেখানে এগুলো কিছুই বের হল না? বাহ রাসেল ভাই বাহ, ইউ প্লেইড দিস নেশন ওয়েল।
অনলাইনে অর্ডারের রিফান্ড নিতে দূর দূরান্ত থেকে যে মানুষ সরাসরি কনভেনশন সেন্টারে রিফান্ড মেলায় এসে যোগদান করেছে এটাই তো বিশাল ব্যাপার। অর্ডারের রিফান্ড নিতে কেন আমাকে ফিজিকালি অফিসে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে? রিফান্ড কেন সরাসরি গ্রাহকের বিকাশ বা ব্যাংকে দেওয়া হচ্ছেনা সেই আলোচনায় না-ই গেলাম।
এখানে এসেও রিফান্ড পেলেও শান্তি থাকতো মনে। সেটাও নেই। গরিবের টাকা তো টাকা না, রিফান্ড পাওয়ার যোগ্যতা নাই আমাদের।
এখন এই অর্ডারের কি হবে আমার জানা নেই। ভোক্তা অধিকারের আশাও ছেড়ে দিলাম। আছেন আর কোন গরিব আমার মত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *