টেকনিক্যাল এসইও

টেকনিক্যাল এসইও, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের ভিত্তি

টেকনিক্যাল এসইও সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন
আমরা জানি যে এসইও একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া।৩ টি ধাপে এই পুরা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।যার মধ্যে টেকনিক্যাল এসইও টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।টেকনিক্যাল এসইও সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের ভিত্তি বলা চলে।

 

টেকনিক্যাল এসইও কিঃ-

টেকনিক্যাল এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের গোড়া।যেহেতু পুরা এসইও প্রক্রিয়া চলে একটি ওয়েবসাইটকে ঘিরে সেহেতু এর গুরুত্ব অবশ্যই অনেক বেশী।
একটি সাইটকে র‍্যাঙ্ক করার আগে সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে দেখে যে সাইটটির লোড টাইম কত। অর্থাৎ সাইট টি ঠিক কত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ লোড হচ্ছে।

 

 

যদি লোড টাইম অনেক বেশী হয় তাহলে সার্চ ইঞ্জিন উক্ত সাইটকে নেগেটিভ ভাবে দেখে। যার প্রভাব সাইটের র‍্যাঙ্কিং এর উপরে পড়ে থাকে।
সুতরাং এসইও এর ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল এসইও এর গুরুত্ব কোন অংশেই কম নয়।বরং টেকনিক্যাল এসইও এর দিকে নজড় দিলে শুরু থেকেই একটি সাইট এসইও ফ্রেন্ডলী হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব।
এছাড়াও টেকনিক্যাল এসইও তে আরোও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর রয়েছে ,যা র‍্যাঙ্কিং এ প্রভাব বিস্তার করে ।আসুন জেনে নেওয়া যাক।

 

বাংলায় সম্পুর্ন এসইও সম্পর্কে জানতে দেখুনঃ-
এসইও কি? সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের আগাগোড়া
জেনে নিন কিভাবে অনপেজ এসইও করবেন।
অফপেজ এসইও, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের শেষ ধাপ
ব্যাকলিংক তৈরির সহজ উপায়

 

টেকনিক্যাল এসইও এর গুরুত্বঃ-

একটি ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করেই এসইও এর সকল কার্যক্রম করা হয়ে থাকে।সুতরাং এসইও শুরু করার জন্য একটি ওয়েবসাইট অপরিহার্য বিষয়।
হাতে একটা ওয়েবসাইট থাকলে তারপরেই তো অনপেজ এসইও বা অফপেজ এসইও এর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
ওয়ার্ড প্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরির সম্পর্কে জেনে নিন।

 

তাছাড়াও এসইও এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের টেকনিক্যাল কিছু বিষয় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
সাইট স্ট্রাকচার,ডিজাইন,পেজ লোড স্প্রিড টাইম,মোবাইল ইউজেবিলিটিএসবকিছুই এসইও এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কারন কেউ চাইলেই যেকোন একটা ওয়েবসাইটে এসইও কার্যকর করতে পারবে না তারজন্য পুরা সাইট টা এসইও ফ্রেন্ডলী হতে হবে।

 

প্রথমে সাইটের প্রতিটি বিষয় এসইও উপযোগী করে তৈরি করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে এসইও এর পরবর্তী ধাপ গুলো এপ্লাই করতে হবে।

 

টেকনিক্যাল এসইও এর কাজের ধারাঃ-

এবার দেখে নেওয়া যাক টেকনিক্যাল এসইও এর মূল বিবেচ্য বিষয়সমূহ।
১। সাইট স্ট্রাকচার ও ডিজাইন
২। পেজ লোড স্প্রিড টাইম
৩। মোবাইল ইউজেবিলিটি
৪। সাইট্ম্যাপ ও রোবট টেক্সট
৫। এস এস এল সার্টিফিকেট
৬। ব্রোকেন লিংক ফিক্স
৭। Crawl এররমুক্ত রাখা
৮। ৪০৪ (পেজ নট ফান্ড) এরর ফিক্স
মোটামুটি এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে ওয়েবসাইট ডেভলোপমেণ্ট এর কাজ করলে আশা করা যায় সাইটটি এসইও ফ্রেন্ডলী বলে গন্য হবে।
দেখে নেওয়া যাক টেকনিক্যাল এসইও এর বিবেচ্য বিষয় গুলোর বিস্তারিত।

১। সাইট স্ট্রাকচার ও ডিজাইনঃ

সাইটের স্ট্রাকচার ও ডিজাইন বলতে পুরা ওয়েবসাইটের গঠন ও কাঠামোকেই বুঝানো হয়েছে। সাইটকে এমন ভাবে সাজাতে হবে যাতে ভিজিটোররা সাইট ভিজিট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
বিশেষ করে সাইটের নেভিগেশন যাতে সহজ হয় ,এতে সার্চ ইঞ্জিনেরও সাইট ক্রল করতে সুবিধা হয়।
এমন একটি থিম বাছাই করতে হবে ৫/৬ টি মুল মেনু ও ৭/৮ সাব মেনু দিয়ে সাইটের সমস্ত বিষয়বস্তকে ভিজিটরদের সামনে ফুটিয়ে তোলা যায়।সহজ নেভিগেশন সিস্টেম এ সাইটের মেইন পেজ এবং ক্যাটাগরি গুলো সাজিয়ে নিতে হবে।

২। পেজ লোড স্প্রিড টাইমঃ

এসইও এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেজ লোড টাইম।পেজ লোড টাইমের উপরে সাইটের র‍্যাঙ্কিং অনেকাংশে নির্ভর করে।
ধরে নিলাম,আপনার সাইটে অনেক ভাল মানের কন্টেন্ট আছে কিন্তু সাইট লোড টাইম খুব খারাপ।এক্ষেত্রে আপনি সার্চ ইঞ্জিনের কাছে খুব সুবিধা করতে পারবেন না।
পেজ লোড স্প্রিড কম হলে সাইটের কনভারসেশন রেট কমে যাবে এবং বাউন্স রেট বেড়ে যাবে যার ফলে সার্চ ইঞ্জিনে কাছে কোন ভাবেই র‍্যাঙ্ক পাবেন না।
সাইটের পেজ লোড স্প্রিড টাইম এবং তদসংক্রান্ত এরর গুলো দেখার জন্য Gtmatrix অথবা Google pagespeed insights ব্যবহার করতে পারেন।এরর গুলো দেখে নিয়ে সেই মত সেগুলো ফিক্স করে পেজ লোড টাইম ঠিক রাখা যায়।

৩। মোবাইল ইউজেবিলিটিঃ

বর্তমানে ওয়েবসাইট ভিজিট করার ক্ষেত্রে কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করার প্রবনতা অনেক বেড়ে গেছে।
তাই সার্চ ইঞ্জিন গুলো মোবাইল ফাস্ট ইনডেক্স এর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।আপনার ওয়েবসাইট যদি রেসপনসিভ বা মোবাইল ফ্রেন্ডলী না হয় তবে সেই ওয়েবসাইটের গ্রহনযোগ্যতা নাই বললেই চলে।
শুধু ডেক্সটপ এর উপযোগী করে সাইট তৈরি করলেই হবে না সেটাকে রেসপনসিভ বা যেকোন ডিভাইসে দ্রুত লোড হওয়ার উপযোগী করে বানাতে হবে।
আপনার সাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলী কিনা তা দেখার জন্য google mobile friendlly test নামের টুলস টি ব্যবহার করতে পারেন।

৪। সাইট ম্যাপ ও রোবট টেক্সটঃ

সাইটম্যাপ এ একটি ওয়েবসাইটের সব বিষয় সাজানো থাকে।যা দেখে সার্চ ইঞ্জিন গুলো সাইট সম্পর্কে সব জেনে নেয়।
এক্স এম এল ফর্মেটে একটি সাইট্ম্যাপ তৈরি করে সেটি search console এ সাবমিট করতে হয়।
সাইট্ম্যাপ ওয়েবসাইটের কনটেন্ট খুজে পেতে,সাইট ক্রল করতে এবং ইনডেক্স করতে সাহায্যে করে থাকে।
সার্চ কনসোলে সাইট সাবমিট করার প্রক্রিয়াটি জানুন
রোবট টেক্সট হল একটি টেক্সট ফাইল যা সার্চ ইঞ্জিন বট দের সাইট সম্পর্কে ইন্সট্রাকশন দেয় যে সাইটের কোন পেজ গুলো ইনডেক্স করতে হবে আর কোন গুলি ইনডেক্স করতে হবে না।
সুতরাং সাইট্ম্যাপের মতো একটি সাইটের রোবট টেক্সট ফাইল থাকা জরুরী।

৫। এস এস এল সার্টিফিকেটঃ

একটি ওয়েবসাইট সিকিউর বা নিরাপদ করার জন্য এস এস এল সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে।সুতরাং এটিও এসইও এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যা ভিজিটরদের কাছে সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।তাদের ব্যক্তিগত তথ্য গুলো নিরাপদ থাকে।এস এস এল ইনস্টল করলে সাইটে https কার্যকর হয়।
এস এস এল ইনস্টল করা না থাকলে এড্রেস বারের বাম দিকে “not secure” ম্যাসেজ দেখায়।
আর এস এস এল ইনস্টল থাকলে একটি লকড আইকন এবং “connection is secure” ম্যাসেজটি শো করবে।
বর্তমানে বেশী হোস্টিং প্রোভাইডার প্রায় সব প্যাকেজের সাথে ফ্রি এস এস এল সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে।

৬। ব্রোকেন লিংক ফিক্সঃ

আপনার সাইটে রেফার করা কোন লিংক যখন কাজ না করে তখন সেটাকে ব্রোকেন লিংক বলে।এ ধরনের লিংক সাইটের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
সাইটে বেশী ব্রোকেন লিংক থাকলে সাইট সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনের একটা খারাপ ধারনা তৈরি হতে থাকে।সাইট র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে যা খুব একটা প্রভাব ফেলে থাকে।সাইটের পোষ্টের সংখ্যা যত বাড়বে ব্রোকেন লিংকের সংখ্যাও ততই বাড়বে।
বিভিন্ন ধরনের ব্রোকেন লিংক চেকার টুলস পাওয়া যায়,যেগুলোর দ্বারা ব্রোকেন লিংক খুজে বের করে সেগুলো রিপ্লেস করে নিতে হয়।

৭। Crawl এরর মুক্ত রাখাঃ

Crawl এরর মানে হলো আপনার পেজটি সার্চ ইঞ্জিন ঠিকভাবে ক্রল করতে পারছে না ।যার অর্থ সার্চ ইঞ্জিন আপনার পেজ ঠিকভাবে দেখতে পারছে না।
সার্চ ইঞ্জিন যদি আপনার পেজ না দেখতে পারে তাহলে তো র‍্যাংক করার প্রশ্নই আসে না।সার্চ কনসোলের Covarage থেকে জানতে পারবেন আপনার সাইটের ক্রল এরর গুলো।যত দ্রুত সম্ভব সাইটের Crawl এরর গুলো খুজে বের করে তা ফিক্স করা জরুরী।

৮। ৪০৪ (পেজ নট ফান্ড) এরর ফিক্সঃ

ধরুন,কোন কারনে আপনার সাইটের একটি পোষ্ট রিমুভ করতে হলো,কিন্তু সেই পোষ্টের করা ব্যাক লিংক বা ইন্টারনাল লিংক কিংবা সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করা লিংক গুলো কিন্তু রয়েই গেল।
যদি কোন ভিজিটর সেই রিমুভ করা লিংকে প্রবেশ করে তবে সে একটি ৪০৪ নট ফান্ড এরর দেখতে পাবে এবং তৎক্ষণাৎ সাইট থেকে বের হয়ে যাবে।
যা সাইটের বাউন্স রেটের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং র‍্যাংকিং বাধাগ্রস্থ করে।সুতরাং এই বিষয়টিও সতর্কতার সহিত নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

টেকনিক্যাল এসইও নিয়ে শেষকথাঃ

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এসইও করার ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল বিষয় গুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে অনুধাবন করা গেল।যা একটা ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *